Wednesday, August 5, 2015

চুলের রুক্ষতা দূরীকরণের কিছু সহজ উপায়


নারীর সৌন্দর্য বর্ধনে চুলের ভূমিকার কোন তুলনা হয় না। যেকোনো নারীকে খুব সহজেই রূপবতী করে তুলতে পারে তার ঝলমলে রেশমি চুল আর এই চুলই যখন রুক্ষ হয়ে পড়ে তখন লাবণ্যময়ী একটি চেহারাতেও এনে দেয় মলিনতার ছাপ। আমাদের বর্তমান যান্ত্রিক জীবনে চুল রুক্ষ হওয়ার অনেক কারণ আছে। চুল রুক্ষ হওয়ার একটি অন্যতম কারণ ধূলোবালি। আজকালের আত্মনির্ভরশীল মেয়েরা বিভিন্ন কাজের তাগিদে ঘরের বাইরে পা বাড়ায়।



এতে চুলে ধূলোবালি লাগে। এছাড়া অনেক সময় তাড়াতাড়ি বের হওয়ার জন্য ভেজা চুলকে শুকানোর জন্য আমরা ব্লো ড্রাই করি। এতেও চুল রুক্ষ হয়ে উঠে। এছাড়াও রিবনডিং, হেয়ার কালার এসবের জন্যও চুল ধীরে ধীরে তার মসৃণতা হারায় আর রুক্ষ হয়ে যায়। রুক্ষ চুলের আগা খুব সহজেই ফেটে যায় যা চুলের বৃদ্ধিতে বাঁধা দেয়। তাই আসুন জেনে নিই খুব সহজে ঘরোয়া পদ্ধতিতে চুলের রুক্ষতার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার কিছু সহজ উপায়।

০১. চুল বা ত্বকের সুস্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে উপকারী ওষুধ হল পানি। প্রচুর পরিমাণে পানি আমাদের শরীরকে যেমন সতেজ রাখে তেমনি আমাদের চুলকেও রাখে সতেজ। একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের দিনে ২-৩ লিটার পানি পান করা উচিত।

০২. চুলের রুক্ষতা দূরীকরণে তেলের সাথে অন্য কিছুর তুলনা হয় না। অলিভ অয়েল অথবা রেড়ির তেল (ক্যাস্টর অয়েল) যেকোনো তেলই চুলকে মসৃণ করে তোলে। যেকোনো তেল রাতে ঘুমানোর আগে দিয়ে সকালে উঠে শ্যাম্পু দিয়ে গোসল করে ফেলা সবচেয়ে উত্তম। তবে যাদের তেল বেশিক্ষণ রাখতে সমস্যা তারা গোসলের ১ ঘণ্টা আগে তেলটি হালকা কুসুম গরম করে নিয়ে কিছুক্ষন মাসাজ করে নিতে পারেন। তারপর শ্যাম্পু করে ফেলতে পারেন। যেকোনো প্রকার তেলের মধ্যে চুলের রুক্ষতার জন্য অলিভ অয়েল সবচেয়ে ভালো। চুলকে কোমল ও লাবণ্যময়ী করে তোলে।

০৩. যাদের চুল রুক্ষ আর সাথে খুশকিও আছে তারা হালকা কুসুম গরম তেলের সাথে লেবুর রস মিশিয়ে দিতে পারেন আর শ্যাম্পু করার পর কন্ডিশনার হিসেবে ১/২ মগ পানিতে সাদা ভিনেগার মিশিয়ে দিতে পারেন। এতে চুল ঝরঝরে হয় আর চুল খুশকি মুক্তও হয়।

০৪. চুলকে ময়েশ্চারাইজ করতে ও রুক্ষতা দূর করতে মেয়নেজও ব্যবহার করতে পারেন। ১/২ কাপ মেয়নেজ নিয়ে হালকা গরম করে মাথায় ৪০-৪৫ মিনিট রাখুন। এতে চুলের রুক্ষ ভাব চলে যায় আর চুল অনেক সিল্কি হয়ে উঠবে।

০৫. চুলের রুক্ষতার জন্য মেহেদি প্যাকও ব্যবহার করতে পারেন। বাজারে এখন বিভিন্ন ধরনের মেহেদি পাওয়া যায়। সেগুলোর প্যাক বানিয়ে ১ ঘণ্টা রেখে ধুয়ে ফেললেও চুল অনেক কোমল ও ঝরঝরে হয়ে উঠে।

০৬. তবে ঘরোয়া পদ্ধতিতে চুলকে কোমল, নমনীয় ও ঝলমলে করার একটি অন্যতম উপায় হল- ১টি পাকা কলা, ১টি ডিম, ২-৩ চা চামচ টক দই, ২-৩ চা চামচ মধু, ১টি লেবুর সম্পূর্ণ রস সবকিছু একসাথে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে সেটি মাথায় ১ ঘণ্টার মতো রাখতে হবে। মিশ্রণটি দেওয়ার আগে চুলে ভালো করে তেল মাসাজ করে নিতে হবে। এতে করে প্যাকটি খুব সহজে চুলে বসবে। অনেক সময় অনেকের চুলে মধু স্যুট করে না। সেক্ষেত্রে তারা মধু পরিহার করতে পারেন। এই প্যাকটি ১ ঘণ্টা রেখে তারপর শ্যাম্পু দিয়ে খুব ভালো ভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে। তারপর কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে। এতে চুলের গোড়া যেমন মজবুত হয় তেমনি নিয়মিত ব্যবহারে চুলের রুক্ষতাও দূর হয়ে যায়। এই প্যাকটি মাসে অন্তত ২বার ব্যবহার করতে হবে। আশা করি আমার লেখাটি আপনাদের সবার উপকারে আসবে। ভালো থাকুন এবং হাসি-খুশি থাকুন।